Friday, 18 October 2019

সাজেক ভ্রমণের টুকটাক

ঢাকার শাহবাগ থেকে ভোর সাড়ে পাচটায় দুটো বাইকে মোট চারজন যাত্রা শুরু করি। একটানে কুমিল্লা গিয়ে সকাল সাতটায় নাস্তা করে নেই। সাথে দশ মিনিটের যাত্রা বিরতি। সেখান থেকে আবার একটানে চট্টগ্রামের বারৈয়ারহাট। চট্টগ্রামের একদম শুরুতেই, মানে ফেনী জেলা শেষ হবার পরপরই এই স্টপেজ। এরপর বায়ের খাগড়াছড়ি রাস্তায় ঢুকে যাই। ঢাকা থেকে বারৈয়ারহাট প্রায় ২০০ কিলোমিটার। সেখান থেকে সাজেক ১৩২ কিলোমিটার এর মতো। পাহাড়ি উঁচু নিচু রাস্তা মূলত এখান থেকেই শুরু।
খাগড়াছড়ি শহর পার হলেই "আলুটিলা গুহা" নামক তৃতীয় শ্রেণির একটা ট্যুরিস্ট স্পট আছে। ঢুকতে ২০ টাকা নেয়। পাব্লিকের রিভিউ দেখে এই জায়গাটায় যাওয়া! গুহা কিংবা গুহ্য টাইপের কিছুর প্রতিই আমার আগ্রহ নাই। সংগীদের বিশ্বজয়ী উৎসাহের কারণে গেলাম। প্রথমে মশাল লাগবে ভাবছিলাম। কিন্তু মোবাইলের আলোতেই কম্ম সারা গেছে। এইখানে না আইসা ঘরে বাত্তি নিভায়া মমতাজের গান শুইনলে এরচে বেশী মজা! যাকগে, এখানে টিকেটের ২০ টাকা ছাড়া কোন খরচা নাই।
আলুটিলা দেইখা গেলাম দিঘীনালা। সেইখানে গিয়া দুপুরের খাবার সারলাম। খরচ এখন অব্দি স্বাভাবিক।
দিঘীনালা থেকে বাইক ছুটালাম বেশ রোমাঞ্চকর ফিলিংস নিয়ে৷ রাস্তায় তেমন গাড়ী নেই। বাঘাইহাট নামক আর্মি ক্যাম্পে আমাদের থামিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে বললো। এখান থেকে সাজেক অব্দি ওরাই গার্ড দিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের মতো আরো অনেকেই ৩ টা বাজার অপেক্ষায় আছে। সকাল ৮ টা আর দুপুর ৩ টা হচ্ছে সাজেক যাওয়ার নির্ধারিত টাইম।
সাজেককে ''মিনি দার্জিলিং" বলা যায়! এখানে থাকার জায়গা এভেইলেবল। আমরা যে হোটেলে ছিলাম সেটার ভাড়া ছিল ১৫০০/-. রুমে দুইটা বালিশের সাথে বড় আর নরম একটা কোলবালিশও দিয়েছিল। ওইটা জড়ায়া ধরার সাথে সাথে আপনার ঘুমের জগতে স্বপ্ন চলে আসবে!
সাজেকের জায়গাটা খুব একটা বড় না। তবে গোছালো। "ব্যাম্বো চিকেন" নাম শুনে ভেবেছিলাম মুরগীর পাছায় বাশ দেয়া কোন কাবাব টাইপের খাবার। রাতে এই স্থানীয় খাবারটা খেয়েছি, ৪০০/-. জাস্ট মুরগীর কারি, বাশের কারণে ফ্লেভারটা একটু আলাদা। বড় মাপের খাদক না হইলে এই এক বাশমুরগীতে তিন/চারজনের অনায়াসে হয়ে যাবে। তবে এখানকার খাবারের দাম স্বভাবতই একটু বেশী।
সাজেকে কোমল ড্রিংক পাওয়া গেলেও শক্ত ড্রিংক পাওয়া যায় না। তবে সব ব্র‍্যান্ডের সিগারেট অত্যন্ত ন্যায্যমূল্যে বিক্রয় করা হয়।
এখানে বউ নিয়া গেলে কেউ ম্যারেজ সার্টিফিকেট দেখতে চায় না। হানিমুনের জন্য বেস্ট! এমনকি ট্রায়ালের জন্যও!
সাজেকের আয়ের অন্যতম খাত ট্যুরিজম। এই আয়ের ফিফটি পারসেন্ট পায় স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী (মানে শান্তিবাহিনী) আর বাকিটা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী!
সাজেকে যেতে নিজের গাড়ী এবং নারী থাকলে আরাম পাবেন। দীঘিনালা থেকে সাজেকের চান্দের গাড়ীর ভাড়া অনেক বেশী। তবে সাজেক যেতে ট্যুর অপারেটরদের প্যাকেজ নেয়াটা বোকামি! ৬/৭ জনের গ্রুপ গেলে গড়ে ৩০০০ টাকার বেশী খরচ হবে না। আর নিজেরা বাইক/গাড়ী নিয়ে গেলে তেমন খরচই নেই!



No comments:

Post a Comment