29 October, 2019

চন্দ্রনাথ পাহাড়!

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় উঠলাম দ্বিতীয়বারের মতো। এর আগে ২০০৫ সালে উঠছিলাম পুরোটাই সিড়ি দিয়ে। এবার গিয়ে দেখি অনেকগুলো সিড়ি ভাঙা। পথ হয়ে আছে "দুর্গম গিরি, কান্তর মরু"! উপরে একটানাভাবে উঠা প্রেম করার চেয়েও কঠিন। পৃঠিবীর সবচে উঁচু পাহাড় চন্দ্রনাথের উচ্চতা প্রায় এক "হাজার হাজার" ফুট! এরচে এভারেস্ট চড়া ওয়ান-টু'র ব্যাপার, মাত্র ২৯ হাজার + ফিট! 😒
চন্দ্রনাথের উপরে উঠার সময় একটা লাঠি, এক লিটার পানি আর ওরস্যালাইন নিয়ে উঠতে হয়। আমরাও নিয়েছি। প্রচুর কাদামাটি, পিচ্ছিল খাড়া সিঁড়ি, ভয়ানক সব কেঁচো, হুট করে বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে উপরে উঠেছি।
কেঁচোর হাত থেকে বাচার জন্য জুতা খুলতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু কাদামাটিগুলা প্রেমিকার মতো, জুতায় লাগলে আর ছাড়ে না। বাধ্য হয়ে জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে জুতা খুলেই উঠেছি। অবশ্য পথে কোন সাপ-জোক নেই। 
তবে উঠার সময় এস্কেলেটর সিস্টেমটাকে খুব মিস করছি। অন্তত ক্যাবল কার থাকলেও হইতো! 😭 কারো সাথে আপনার শত্রুতা থাকলে পামপট্টি দিয়া এইখানে ঘুরাইতে নিয়া আসবেন! ব্যস, কেল্লাফতে!
বহু চড়াই উতরাই পার হয়ে উঠার পরে দেখি একপাশে শতশত পাহাড়ের সাড়ি অন্যপাশে সাগর। আমার কাছে মনে হইছে বাংলাদেশের সেরা প্রাকৃতিক দৃশ্য এটি। মেঘের ধোয়া আমাদের ছুঁয়ে যাচ্ছিলো। সাথে খুবই রোমান্টিক বাতাস। জড়িয়ে ধরার মতো অনেক লোকই ছিলো, কিন্তু একটু আগে ঘেমে-বৃষ্টির পানিতে ভিজে শরীর থেকে মেশকে আম্বরের গন্ধ আসতেছিলো; তাই আর পারি নাই! আর এক্সট্রা জামা ছিলো না বলে এই বিড়ম্বনাটুকুও সইতে হইছে। 😷
আধা ঘন্টা মন্দিরের পাশে বিশ্রাম নিয়ে, আপ্নাদের জন্য কয়েকটা ছবি তুলে বামের সিঁড়ি রাস্তা দিয়ে নেমে আসছি। সিড়ি অনেক খাড়া। কেউ চাইলে এবং উচ্চতা ভীতি থাকলে ধীরেধীরে না নেমে মন্দিরের সামনের দেয়াল থেকে লাফ দিয়ে দুই মিনিটেই নামতে পারবেন। (হাত পা ভাঙলে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।)
*** মধ্যাহ্ন বিরতী! বাজারে এসে রূপচাঁদ মাছ দিয়ে ভরপেট ভাত খেয়ে নিন। ৩০০/- নিবে।***
এখান থেকে খেয়ে দেয়ে গেলাম গুলিয়াখালী বীচে রিজার্ভ সিএনজিতে ১০০/- টাকায়। এমনিতে একজন ৩০/- নেয়। আমাদের সিএনজি ড্রাইভারের ভাষা ছিল 'সীতাকুন্ডী"! এই ভাষার সাথে বাংলা ভাষার কিছুটা মিল পাবেন। অবশ্য ওখানকার সবাই বাংলা বুঝে! 
প্রায় ২০ মিনিট চলার পরে বীচের কাছের স্টপেজে গেলাম। ওখান থেকে বেশ কিছুটা পথ হেটে বীচের কাছাকাছি গিয়ে দেখি সবুজ কার্পেটের মাঠ! মাঠের কিছু অংশে ছোট ছোট ট্রেঞ্চ। এগুলোতে বোধহয় বিপদের সময় অসহায় নির্যাতিত মৎস সমাজ লুকিয়ে থাকে। এরকম মিনি পুকুর কিংবা উপপুকুর দেখতে কিউট লাগতেছিলো! বিকেলের এই সময়টায় ভাটা থাকে। গুলিয়াখালী ঘুরার একমাত্র সময়। সমুদ্রের গর্জন ছিলো কক্সবাজারের মতোই।
এই স্পটগুলো এখনো স্বীকৃত ট্যুরিস্ট স্পট হয়ে উঠে নি। আমাদের পর্যটন কর্পোরেশন "রান্নাবান্না"র কোর্স শেখানোতে ব্যস্ত না থাকলে স্থানীয় লোকজনের ভাগ্যোন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অসাধারণ কিছু স্পট পাইতো।
ঢাকা থেকে হিসেব করলে সবমিলে খরচা চন্দ্রনাথের উচ্চতার সমান! 😉
চট্টগ্রামের মানুষজনের আতিথেয়তা আমার কাছে পুরো দেশের যেকোনো অংশের চেয়ে সেরা মনে হয়। জাফর ভাই সেটা আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা! 💜

© KingDH

1 comment:

  1. Place your bets with our vary of classic online on line casino games and enjoy a very immersive expertise without having to visit your local on line casino. One of the highlights of the bonus is the 90-day clearing fee. Most bonuses give you round 30 days, so to get thrice that amount is excellent and makes it incredibly accessible for players 온라인카지노 who don’t play huge volumes of on line casino games. At SpinCasino, could be} welcomed with a good-looking bonus provide if you create model new} member account right after you check out at|try} our evaluate.

    ReplyDelete